১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩ ০৮:৩৮ পিএম

দেশে তামাকজনিত রোগে দৈনিক মৃত্যু ৪৫০: বিএমএ 

দেশে তামাকজনিত রোগে দৈনিক মৃত্যু ৪৫০: বিএমএ 
বিদ্যমান আইনে কিছু দুর্বলতা রয়েছে। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার দাবি জানান বিএমএ নেতারা।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে প্রতিদিন তামাকজনিত রোগে প্রায় ৪৫০ জন মানুষ মারা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশেন (বিএমএ)। এ অবস্থায় বিএমএ নেতারা বলছেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের বিকল্প নেই। কারণ, বিদ্যমান আইনে কিছু দুর্বলতা রয়েছে। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার দাবি জানান তারা।

আজ সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিএমএ এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জন: তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনে অগ্রগতি ও পরবর্তী করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ দাবি জানান।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিচার্স ইনস্টিটিউটের এপিডেমিওলোজি এন্ড রিসার্চের বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় পৌনে চার কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে। কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয় ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ।

হৃদরোগ, ক্যান্সার, বক্ষব্যাধি এবং অন্যান্য অনেক রোগ এবং মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ তামাকজাত দ্রব্যের বহুল ব্যবহার। তামাকের এসব ক্ষতি থেকে জনস্বাস্থ্যকে রক্ষার জন্য তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমএ’র সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. মোস্তাফা জালাল মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, তামাক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর- এটি প্রায় সবাই জানেন। তারপরও মানুষ এটা ব্যবহার করছে। তাই সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তামাক বিরোধী প্রচার-প্রচারণা আরও জোরদার করতে হবে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে তামাকবিরোধী প্রচারণা পৌঁছে দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়নে চিকিৎসক সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বিএমএ ঢাকা মহানগরের সহ-সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএমএ  দপ্তর সম্পাদক ডা. মোহা. শেখ শহীদ উল্লাহ।  স্বাগত বক্তব্যে বিএমএ সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. তারিক মেহেদী পারভেজ বলেন,  বিএমএ সাধারণত চিকিৎসকদের নিয়ে কাজ করলেও জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাই তামাকের ভয়াবহতা থেকে জনস্বাস্থ্যকে রক্ষা করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বিএমএ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএমএ মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের জন্য বিএমএ কাজ করছে। আর এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই তামাকবিরোধী কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে বিএমএ। অতীতের মতো সামনের দিনেও বিএমএ এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ যৌথভাবে তামাকের কুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষদের সচেতন করতে কাজ করবে। 

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আওয়াল রিজভী বলেন, বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করতে হবে। এটি করতে অবশ্য অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ তামাকবিরোধী কাজ করে যাচ্ছে। এবার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিদ্যমান আইনের ছয়টি দুর্বলতা চিহ্নিত করে সেগুলো সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে। 

দাবিগুলো হলো- সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে “ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান (DSA) নিষিদ্ধ করা; তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়স্থলে (Points of Sale) তামাকজাত পণ্য প্রর্দশন (Product Display) নিষিদ্ধ করা; তামাক কোম্পানির যে কোন ধরণের সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কর্মসূচি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা; ই-সিগারেটের মতো এমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টসমূহ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা; তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট/কৌটায় সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০% থেকে বাড়িয়ে ৯০% করা এবং বিড়ি-সিগারেটের খুচরা শলাকা, মোড়কবিহীন এবং খোলা ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা।

আলোচনা সভায় আরো অংশগ্রহন করেন, বিএমএ সহ-সভাপতি ডা. মো. জামাল উদ্দিন খলিফা, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ডা. এএইচ এম জহুরুল হক সাচ্চু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বাবু ও স্বাচিপ সভাপতি ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন চৌধুরী।

এএইচ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক